Home আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ২

0
7
যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নেভানোর অভিযানে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ড শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে থ্রি ক্রিকস রিজার্ভারের কাছে ওয়াইডমাউথ-২ দাবানলের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইউনাইটেড স্টেটস ফরেস্ট সার্ভিসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস পরিচালিত সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের হেলিকপ্টারটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পাইলট ও একজন ক্রু সদস্য নিহত হন।

দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শনিবার ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (NIFC) দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান

দাবানলের তীব্রতা এবং দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারী দল সহজে হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। শনিবার নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে এনআইএফসি ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ডেপুটি ইনসিডেন্ট কমান্ডার টাইলার হেচ জানান, দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দমকলকর্মীরা সাময়িকভাবে অভিযান বন্ধ রাখলেও পরে আবার আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা তাদের কার্যক্রমের গতি থামিয়ে দেবে না। আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজও আগের মতো চালিয়ে যাওয়া হবে।

ইউটায় ভয়াবহ দাবানল

ইউটার গভর্নর স্পেনসার কক্স বনভূমির দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিহত ক্রু সদস্যদের স্মরণে তিনি সবাইকে প্রার্থনার আহ্বান জানান।

শনিবার সন্ধ্যায় ইউটা হাইওয়ে পেট্রোলের উদ্যোগে নিহতদের স্মরণে একটি শোক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

গত ২৭ জুলাই বজ্রপাতের মাধ্যমে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে ওয়াইডমাউথ-২ দাবানলের সূত্রপাত হয়। শনিবার পর্যন্ত আগুনে ৪৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি (প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার একর) বনভূমি পুড়ে গেছে।

এটি চলতি বছর ইউটা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় দাবানল হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাতাসের কারণে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের জনবসতিও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

শনিবার পর্যন্ত মাত্র ২৪ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

ইউটায় দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

চলতি দাবানল মৌসুমে ইউটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

এর আগে গত জুনে কলোরাডো সীমান্তের কাছে নোলস ও গোর দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় তিনজন দমকলকর্মী নিহত হন। পরে ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরও একজন দমকলকর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here