Home অর্থনীতি বড় বিনিয়োগ ছাড়াই এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ

বড় বিনিয়োগ ছাড়াই এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ

0
11
বড় বিনিয়োগ ছাড়াই এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক ও লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সরকারের পক্ষে এ প্রক্রিয়ায় কাজ করছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনসিটির মূল অবকাঠামো নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যয় হয়েছে ৭৩৭ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে ব্যাকআপ সুবিধা ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম কেনায় আরও অর্থ ব্যয় করা হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এনসিটিতে সরকারি বিনিয়োগ প্রায় ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা

বন্দর বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলমের দাবি, এনসিটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের যন্ত্রপাতি বর্তমানে রয়েছে। তার মতে, সফটওয়্যার ও আইটি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ ছাড়া বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুব বেশি নেই।

তবে পিপিপি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড আরও ২০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। যদিও এই বিনিয়োগ কোন কোন খাতে করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

রাজস্ব কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও পরে চুক্তির কাঠামো পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটিকে কনসেশনিয়ার হিসেবে দেখানোর প্রস্তাব আসে। এতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ প্রথমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হিসাবে জমা হওয়ার পর বছর শেষে নির্দিষ্ট অংশ বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে।

তার আশঙ্কা, এর ফলে বন্দরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। কারণ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর পাশাপাশি স্টোরেজসহ বিভিন্ন সেবা থেকেও বন্দরের বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবিত আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারে গড় আয় ১০৫ ডলারের কম হলে ৪২ দশমিক ৫০ ডলার এবং গড় আয় ২১০ ডলার বা তার বেশি হলে ১৪১ দশমিক ৫০ ডলার রয়্যালটি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমান আর্থিক মডেল অনুযায়ী প্রতি টিইইউ কনটেইনারে পরিবর্তনশীল খরচ ১৬ দশমিক ৩৯ ডলার এবং স্থায়ী প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় ৪১ দশমিক ৩২ ডলার। প্রতিবেদনের হিসাবে, বন্দরের গড় গ্রস আয় প্রতি টিইইউতে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার। এর প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে স্টোর রেন্ট থেকে।

এনসিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে রয়েছে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছয় জেটির জিসিবি ৪৬৫টি জাহাজ পরিচালনা করলেও চার জেটির এনসিটি পরিচালনা করেছে ৭৮১টি জাহাজ। একই অর্থবছরে এনসিটি এককভাবে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে প্রায় প্রতি অর্থবছরেই টার্মিনালটি এককভাবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন যন্ত্রপাতি নিয়ে ভিন্নমত

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামানের বক্তব্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনসিটির বেশিরভাগ যন্ত্রপাতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ধরে রাখতে নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনসিটির জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চারটি কিউজিসি ও চারটি আরটিজিসহ আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করা হয় এবং এসব যন্ত্রপাতির বেশিরভাগের আয়ুষ্কাল এখনো দীর্ঘ।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বন্দর কার্যদক্ষতা সূচকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান বিবেচনায় অধিক সক্ষম ও অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগ, আর্থিক কাঠামো বা অপারেটর নির্বাচন সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

বিডি ভিউজ বাংলার পক্ষ থেকে উল্লেখ্য: প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here