নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ সকাল
সর্বশেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ সকাল
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুঘাটের ইজারাদারের এক কর্মীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে ইউএনওকে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় দেওয়ার পর লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইজারাদার পক্ষের দাবি, বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা দুইটার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী আনসার ও র্যাব সদস্যদের নিয়ে বালু বিক্রির ওই পয়েন্টে যান। সেখানে তিনি ইজারার কাগজপত্র দেখতে চান।
এ সময় ঘাটে থাকা ইজারাদারের ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান।
ফুটেজ অনুযায়ী, ইউএনও নিজের পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি ত্রিশালের ইউএনও এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। একপর্যায়ে তিনি সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন।
পরে র্যাবের এক সদস্য তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ার জাহানকে কয়েকবার আঘাত করেন বলে ফুটেজে দেখা যায়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।
আহত কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি
ইজারাদার পক্ষের দাবি, মারধরের শিকার সারোয়ার জাহানকে পরে র্যাবের গাড়িতে করে ধলা এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় দুই কোটি টাকায় ইজারা নেওয়ার দাবি
সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, তাঁরা প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বালুঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে ইজারা পেলেও রাস্তা না থাকায় ৮-১০ দিন আগে বালু সরানোর কাজ শুরু করেন।
পরে কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির কাউন্টার চালু করা হয় বলে জানান তিনি।
শামসুজ্জামান মাসুদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ইউএনও কাউন্টারে ঢুকে কাগজপত্র দেখতে চান। কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজপত্র আছে এবং সেগুলো এনে দেওয়া হবে বলা হলে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মীকে মারধর করেন।
বালুঘাটটি বৈধভাবে ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ঘটনা সম্পর্কে ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁদের দাপ্তরিক মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
‘ইউএনওর এমন আচরণ পেশাদারিত্বের মধ্যে পড়ে না’
ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। তাঁর মতে, ইউএনওর এমন আচরণ পেশাদারিত্বের মধ্যে পড়ে না।
কোন পরিস্থিতিতে ইউএনও এমন আচরণ করেছেন, তার ব্যাখ্যা তাঁকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












