Home জাতীয় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে, গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তির আশা

জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে, গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তির আশা

0
45
জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে, বিদ্যুৎ খাতে বাড়ছে গ্যাস বরাদ্দ

বিডি ভিউজ বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬

জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৮২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) দাঁড়িয়েছে। এতে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ২,৪৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট। গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির পর এটিকে সর্বোচ্চ সরবরাহের পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাওয়া শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৪টার তথ্য অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকে ৩০০ মিলিয়নের বেশি এবং সামিটের এফএসআরইউ থেকে ৫১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১,৬১৫ এমএমসিএফডি

গত ২১ জুলাই মহেশখালী উপকূলে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে এলএনজি সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়। এর ফলে সারাদেশে গ্যাস সংকট তীব্র হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩-১৪ আগস্ট ৩,৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট দাপ্তরিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১,৯৩১.২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগে ১২-১৩ আগস্ট সরবরাহ ছিল ২,০৩৯.২ মিলিয়ন, ১১-১২ আগস্ট ২,১০৯.৬ মিলিয়ন এবং ১০-১১ আগস্ট ২,১৯৯.১ মিলিয়ন ঘনফুট।

সে তুলনায় শনিবারের প্রায় ২,৪৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ গ্যাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা

চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে পেট্রোবাংলা।

বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৮৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ রয়েছে। গ্যাসের প্রাপ্যতা ও সিস্টেমের চাহিদা বিবেচনায় সেটি ৯৬০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সার কারখানা, শিল্প ও অন্যান্য খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে এই বাড়তি বরাদ্দ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে লোডশেডিং কমানো এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর লক্ষ্য রয়েছে।

দুটি এফএসআরইউ থেকে এলএনজি সরবরাহ

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। বাকি অংশ পূরণ করা হয় আমদানি করা এলএনজি দিয়ে।

বর্তমানে দেশে সচল দুটি এফএসআরইউ (Floating Storage and Regasification Unit)-এর সম্মিলিত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট

এর মধ্যে—

  • সামিট এফএসআরইউ: ৫০০ এমএমসিএফডি
  • এক্সিলারেট এনার্জি এফএসআরইউ: ৬০০ এমএমসিএফডি

সামিট বর্তমানে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় ৫১০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করছে। তবে এক্সিলারেট এনার্জি এখনো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো সীমিত থাকায় গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা পেট্রোবাংলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সূত্র: পেট্রোবাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here