ন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬
দেশের যেসব ছোট ছোট এলাকায় হাম-রুবেলার টিকা থেকে কিছু শিশু বাদ পড়েছে, সেসব এলাকায় বিশেষভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মজুত থাকা ১৬ লাখ টিকা ব্যবহার করা হবে।
পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়া হবে
স্বাস্থ্যসচিব জানান, দেশের কিছু ‘পকেট’ বা ছোট এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে। এসব এলাকার সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা মজুত রয়েছে, যা এসব এলাকায় বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবহার করা হবে।
সভায় হামে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম, ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস, ১৪ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর এবং বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।
৯১৪ জনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে চলতি বছর হামের উপসর্গে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৮১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৪ জনে।
মৃতদের বড় একটি অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ কোনো টিকা নেয়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ
হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা মাঠপর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রচার করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির টিকার মজুত নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। আগামী বছর যাতে টিকার সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য আগাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে শূন্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর












