নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬
ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে নামার সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আদালতের রায়
মামলার নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (সংশোধিত-২০০৩) ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। ক্ষতিপূরণের এই দাবি অন্যান্য দাবির তুলনায় অগ্রাধিকার পাবে।
সম্পত্তি নিলামের নির্দেশ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ট্রাইব্যুনালে অর্থ জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রায়ের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারাধীন সময়ে আসামির হাজতবাসের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার বিধান অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
রায় ঘোষণার পর কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
তবে আদালত থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য রায়ের অনুলিপি কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
সূত্র: আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য












