নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬
গবাদিপশুর জেনেটিক উন্নয়ন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন এবং দেশীয় প্রাণীসম্পদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ প্রাণী প্রজনন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত আইনে গবাদিপশুর প্রজনন কার্যক্রমকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনার পাশাপাশি অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
🔹 যেসব কার্যক্রম আইনের আওতায়
খসড়া অনুযায়ী, প্রজনন ষাঁড় নির্বাচন, সিমেন উৎপাদন ও সংরক্ষণ, ভ্রূণ স্থানান্তর, আইভিএফ, জিনোমিক নির্বাচন, জাত নিবন্ধন, জেনেটিক মূল্যায়ন, কৃত্রিম প্রজনন এবং প্রজনন উপকরণের আমদানি-রপ্তানি ও কেনাবেচা নিয়ন্ত্রিত হবে।
অনুমোদন ছাড়া বুল স্টেশন, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, সিমেন ব্যাংক, ভ্রূণ উৎপাদন কেন্দ্র বা আইভিএফ ল্যাবরেটরি পরিচালনা করা যাবে না।
নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সব প্রজনন কার্যক্রমের মান, জৈবনিরাপত্তা, প্রাণীকল্যাণ, প্রশিক্ষিত জনবল ও আধুনিক পরীক্ষাগার নিশ্চিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
🔹 অনুমোদিত ষাঁড় ছাড়া সিমেন উৎপাদন নিষিদ্ধ
প্রস্তাবিত আইনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো ষাঁড় থেকে বাণিজ্যিকভাবে সিমেন উৎপাদন ও বাজারজাত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রত্যেক প্রত্যয়িত ষাঁড়কে দেওয়া হবে স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর।
এ ছাড়া উৎপাদিত সিমেনের প্রতিটি স্ট্রতে ষাঁড়ের পরিচিতি নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও কেন্দ্রের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
🔹 সিমেন ব্যাংক ও জিন ব্যাংক
সরকারি ও অনুমোদিত বেসরকারি উদ্যোগে জাতীয়, আঞ্চলিক বা বিশেষায়িত সিমেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংরক্ষিত সিমেনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রেকর্ড রাখতে হবে। দেশীয় জেনেটিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য নির্বাচিত ষাঁড়ের সিমেনের নমুনা দীর্ঘমেয়াদে জিন ব্যাংকে সংরক্ষণের বিধানও থাকছে।
🔹 অনিয়মে কঠোর শাস্তি
নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রজনন উপকরণ বিক্রি, জেনেটিক মূল্যায়নে ভুয়া তথ্য, বংশগত ত্রুটিযুক্ত প্রাণী প্রজননে ব্যবহার, দেশীয় প্রজনন সম্পদ পাচার কিংবা ডিএনএ তথ্য বিকৃত করার মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তি দ্বিগুণ করার বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত সিমেন, সরঞ্জাম, প্রাণী ও পরিবহনও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
🔹 ১৭ সদস্যের নিয়ন্ত্রক কমিটি
আইন বাস্তবায়নে গঠন করা হবে ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় কারিগরি নিয়ন্ত্রক কমিটি’। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ডেইরি খাত ও প্রজনন বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে পরিচালিত বুল স্টেশন, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, সিমেন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন কার্যকর হওয়ার পর এক বছরের মধ্যে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, খসড়াটির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত চাওয়া হয়েছে এবং ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে।
#BDViewsBangla #AnimalBreeding #Livestock #Bangladesh #LivestockDevelopment #DairyFarming #GeneticImprovement #IVF #ArtificialInsemination #AnimalBreedingAct2026 #প্রাণিসম্পদ #গবাদিপশু #কৃত্রিমপ্রজনন #কৃষি #বাংলাদেশ












