ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। একই সঙ্গে দুই দেশে নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৭২ জনে পৌঁছেছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রায় এক সপ্তাহ পরও দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে এখনো শত শত শ্রমিক আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দুর্গত অঞ্চলজুড়ে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো প্রায় ৬০০ মানুষ আটকা রয়েছেন। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে উদ্ধার অভিযানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামোর ওপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ ও ঘন কাদা সরিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি নুওয়াকোট জেলা। সেখানে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম কিছুটা সহজ হয়েছে। জেলার বেত্রাবতী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি।
এদিকে, বন্যায় নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি—এমন শত শত মরদেহ গণকবরে দাফন করছে কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ডিএনএসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
দুর্যোগের পর নেপালে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নেপালের প্রতিবেশী ভারত ও চীনও উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে অস্থায়ী ‘বেইলি ব্রিজ’ নির্মাণেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঘন কাদায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলগুলো ঢেকে যাওয়ায় সেখানে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চলছে। প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ ও কাদা সরিয়ে টানেলের ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকেই এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হতে পারে। হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেপালের চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।
দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনো চলছে।















