Home সর্বশেষ সংবাদ গাজীপুর সাফারি পার্কের চুরি হওয়া দুই লেমুর ভারতে পাচার

গাজীপুর সাফারি পার্কের চুরি হওয়া দুই লেমুর ভারতে পাচার

0
9
গাজীপুর সাফারি পার্কের চুরি হওয়া দুই লেমুর ভারতে পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা

প্রকাশের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে প্রায় দেড় বছর আগে চুরি হওয়া দুটি রিঙ-টেইলড বা ডোরাকাটা লেজের লেমুর ভারতে পাচার হয়ে গেছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক হাত ঘুরে বিপন্ন প্রজাতির লেমুর দুটি ভারতের গুজরাটের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছেছে। কেন্দ্রটির নাম ভান্তারা বলে জানিয়েছে সিআইডি।

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে পাচার

সিআইডি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লেমুর চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া যায়, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দুটি লেমুর ভারতে পাচার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে সেগুলো ভারতে প্রবেশ করে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

চুরি হওয়া তিনটি লেমুরের মধ্যে একটি পরে ঢাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে কয়েক মাস আগে সেটিও মারা গেছে বলে জানিয়েছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে সন্ধান

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, ভারতে পাচার হওয়া লেমুর দুটির অবস্থান নিশ্চিত করতে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ভান্তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পেজে ডোরাকাটা লেজের লেমুরের ভিডিও পাওয়া যায়।

ভিডিওটি সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের দেখানো হলে তারা সেখানে থাকা লেমুরগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া লেমুরও রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন।

তবে ছবি ও ভিডিওর ভিত্তিতে লেমুর দুটি বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে—এটি আইনগতভাবে নিশ্চিত করা কঠিন। তাই বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় লেমুর দুটি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়।

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলতে পারে প্রমাণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার মতে, লেমুর দুটির পরিচয় নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক উপায় হলো আগের জেনেটিক প্রোফাইল বা ডিএনএ পরীক্ষার ফলের সঙ্গে নতুন পরীক্ষার ফল মিলিয়ে দেখা।

তবে গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে চুরি হওয়া লেমুর দুটির কোনো পূর্ববর্তী ডিএনএ রিপোর্ট নেই।

এ অবস্থায় পার্কে থাকা আরেকটি লেমুরের নমুনা সংগ্রহ করে জেনেটিক পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। ওই লেমুরটি চুরি হওয়া দুটির রক্তসম্পর্কীয় হওয়ায় তার জেনেটিক প্রোফাইলের সঙ্গে ভারতের লেমুরগুলোর নমুনা মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশে এসেছিল লেমুরগুলো

রিঙ-টেইলড লেমুর বাংলাদেশের স্থানীয় প্রাণী নয়। এদের প্রাকৃতিক আবাস মাদাগাস্কার। অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচারের কারণে প্রজাতিটি হুমকির মুখে রয়েছে।

২০১৮ সালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি পশু-পাখির একটি অবৈধ চালান আটক করা হয়। সেখানে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রাণীর সঙ্গে এক জোড়া রিঙ-টেইলড লেমুরও ছিল। পরে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয় এবং তাদের দুটি বাচ্চাও জন্ম নেয়।

২০২২ সালের শুরুতে একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে অবশিষ্ট তিনটি লেমুরই চুরি হয়ে যায়।

চুরির ঘটনায় তদন্ত করে পুলিশ আট সদস্যের একটি চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। পার্ক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের একজন সাফারি পার্কে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতেন।

এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, ভারতে থাকা লেমুর দুটির পরিচয় বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here