চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডি ভিউজ বাংলা: চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে [১]। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন [১]। জেলার ১৬টি উপজেলা ও মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন [১]। [1]
আজ রোববার (১২ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির সরকারি পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়েছে [১]।
বিপর্যস্ত ১৬ উপজেলা, পানিবন্দি লাখো মানুষ
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবে চট্টগ্রামের মহানগরসহ বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ির মোট ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে [১]। সরকারি খতিয়ান মতে, বর্তমানে জেলার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে [১]।
আশ্রয়কেন্দ্র ও সরকারি ত্রাণ তৎপরতা
গৃহহীন ও প্লাবিত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষার্থে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে [১]। ইতিমধ্যে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোদমে চালু করা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন [১]।
বন্যাদুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ১ হাজার ২০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭১০ টন চাল ইতিমধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে [১]। এ ছাড়া বরাদ্দকৃত ৮৫ লাখ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে [১]। জরুরি খাদ্যসংকট মেটাতে দুর্গতদের মাঝে ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে প্রশাসন [১]।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলা প্রশাসনের তহবিলে আরও ৪৯০ টন চাল এবং ২৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুত রয়েছে [১]। এগুলো পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে [১]











