আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএনএসএ) নতুন প্রজন্মের ‘বি৬১-১৩’ (B61-13) পারমাণবিক বোমার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই প্রস্তুত করেছে। সংস্থাটির দাবি, এই অগ্রগতি দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এনএনএসএ জানায়, টেনেসির ওয়াই-১২ ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমপ্লেক্সে চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ক্যানড সাব-অ্যাসেম্বলি (CSA)-এর ‘ডায়মন্ড স্ট্যাম্পিং’ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি পারমাণবিক ওয়ারহেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সব ধরনের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ও মাননিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া পেরিয়ে উৎপাদনের জন্য অনুমোদন পেয়েছে।
এনএনএসএ জানায়, ২০২৫ সালের মে মাসেই বি৬১-১৩-এর প্রথম ইউনিটের উৎপাদন সম্পন্ন হয়। কর্মসূচি ঘোষণার দুই বছরেরও কম সময়ে এটি তৈরি হওয়ায়, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দ্রুত বাস্তবায়িত পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বি৬১-১৩ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত বি৬১ সিরিজের আধুনিক সংস্করণ। নতুন সংস্করণে বি৬১-১২-এর নিরাপত্তা, নির্ভুলতা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি বজায় রাখা হলেও এর বিস্ফোরণ ক্ষমতা আরও বেশি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর সর্বোচ্চ বিস্ফোরণ ক্ষমতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২৪ গুণ বেশি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বোমাটি বিশেষভাবে মাটির গভীরে অবস্থিত শক্তিশালী ও সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে বি-২১ রেইডার (B-21 Raider) স্টিলথ বোমারু বিমানে বহন করা হবে।
বর্তমানে বি৬১-১৩ যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেড আধুনিকীকরণ কর্মসূচির একটি। এনএনএসএ জানিয়েছে, এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগেই এগিয়ে চলছে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনএনএসএর প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস বলেন, এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর—এ বার্তাও বহন করবে।












