অর্থনীতি ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
মূলধন সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) চারটি শাখা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক (CBUAE) ব্যাংকটির শাখাগুলোর হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনে (ডেবিট লেনদেন) নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। পাশাপাশি নতুন গ্রাহকের হিসাব খোলা বন্ধ এবং বিদ্যমান কার্যক্রম ধাপে ধাপে গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনতা ব্যাংকের ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম পরিশোধিত মূলধন থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১০০ মিলিয়ন দিরহাম, অর্থাৎ ৩০০ মিলিয়ন দিরহাম (প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা) ঘাটতি রয়েছে।
মূলধন না বাড়ালে শাখা বন্ধের ঝুঁকি
গত ৮ জুলাই ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী গভর্নর আহমেদ সাঈদ আল কামজি জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেন। একই চিঠিতে বিষয়টি দ্রুত জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরদিন ৯ জুলাই একই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংককেও জানানো হয়।
জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১৪ জুলাই জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কী বলছে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক?
সিবিইউএই জানিয়েছে, জনতা ব্যাংকের গ্রুপ পর্যায়ে মূলধন ঘাটতি, আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যাংকিং বিধিমালার ন্যূনতম মূলধন শর্ত লঙ্ঘনের কারণে এই নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী—
- নতুন গ্রাহকের হিসাব খোলা যাবে না।
- বিদ্যমান ব্যবসা ধাপে ধাপে গুটিয়ে নিতে হবে।
- প্রতিটি ডেবিট লেনদেনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।
- শুধুমাত্র আমানতকারীদের দাবি পরিশোধের জন্য সীমিত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
জনতা ব্যাংকের ব্যাখ্যা
জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ব্যাংকটি তিন বছরে ধাপে ধাপে পরিশোধিত মূলধন ৪০০ মিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করার প্রস্তাব ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবটি গ্রহণ না হলে সরকারের সহায়তায় মূলধন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বড় চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৭৩.৯৪ শতাংশ।
এ ছাড়া—
- মূলধন ঘাটতি: ৫২ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা
- প্রভিশন ঘাটতি: ৫০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা
- ২০২৫ সালে নিট লোকসান: ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা
- নিট সুদ আয়: ঋণাত্মক ৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা
চার শাখার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
১৯৭৬ সাল থেকে ইউএইতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জনতা ব্যাংক। বর্তমানে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল-আইনে ব্যাংকটির চারটি শাখা রয়েছে।
এসব শাখা মূলত প্রবাসীদের রেমিট্যান্স, এনআরবি ব্যাংকিং, এলসি, ট্রেড ফাইন্যান্স, গ্যারান্টি সুবিধা, আমানত সংগ্রহ ও বাণিজ্যিক ঋণ সেবা দিয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনা বহাল থাকলে চারটি শাখার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS)












