আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান চূড়ান্ত যুদ্ধে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ সিদ্ধান্তের একমাত্র এখতিয়ার রয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির, যিনি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।
রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আরাগচি জানান, বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়া।
তিনি বলেন, “ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। বর্তমানে আমাদের সেনাবাহিনীর হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাব। চূড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে কি না, তা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গত শনিবার অনুষ্ঠিত সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দীর্ঘ বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংঘাতের পটভূমি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তথাকথিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চুক্তির একটি শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করবে ইরান। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ শিথিল করবে।
তবে পরবর্তীতে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে।
সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নিজের যোগাযোগ প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, “তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি। মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তিরই তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি রয়েছে।”
সূত্র: Tehran Times












