ঢাকা | বিডি ভিউজ বাংলা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন অযোগ্যতার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।
ইসি সূত্র জানায়, জেলা পরিষদ বাদে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশনের আইন-বিধি সংস্কার কমিটি। এসব প্রস্তাব মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে সুপারিশ আকারে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সেনা মোতায়েনের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব
বর্তমানে ২০০৯ সালের ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে প্রয়োজন হলে এসব নির্বাচনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সুযোগ রয়েছে।
তবে উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে একই ধরনের বিধান নেই। ইসি এখন এই দুই আইনেও সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তিন বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া সহজ হয়।
ইসির কর্মকর্তাদের মতে, আইনে এই বিধান যুক্ত থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনা মোতায়েনের জন্য আলাদা প্রশাসনিক জটিলতা থাকবে না। প্রয়োজনে তারা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন এবং বিদ্যমান আইনের আওতায় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্দলীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ
ইসি বলছে, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে একই এলাকার একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারেন, ফলে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি নতুন অযোগ্যতার বিধান যুক্ত করতে চায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী—
- দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা (ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ ছাড়া) স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
- এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সার্বক্ষণিক কর্মচারীরাও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন বিধান নেই।
নিষিদ্ধ দলের নেতাদের বিষয়ে আপাতত কোনো পরিবর্তন নয়
কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা সক্রিয় কর্মীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি উঠলেও, এ বিষয়ে আপাতত কোনো আইন সংশোধনের চিন্তা করছে না নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই কোনো ব্যক্তি আইনে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞের মত
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং নির্বাচন আরও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা সহজ হতে পারে।












