বিডি ভিউজ বাংলা | আইন ও আদালত
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় করা চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য আসামিকে কারাগারে পাঠানো নয়, বরং চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড একটি কঠোর সাজা। তাই বিশেষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতি ছাড়া এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া উচিত নয়।
বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। গত ২২ জুলাই রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এর লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
কারাদণ্ড বাতিল, বহাল অর্থদণ্ড
হাইকোর্ট আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে চেকের বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্তি পাবেন না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
রায়ে ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির তুলে ধরে হাইকোর্ট বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে মূল শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। ওই মামলায় দেওয়া নীতির সঙ্গে আদালত একমত পোষণ করেছেন।
মামলার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য মো. আলাউদ্দিন ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি রূপালী ব্যাংকের একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ডিজঅনার হয়।
পরবর্তীতে আইনি নোটিশ দিয়েও টাকা পরিশোধ না করায় ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়।
২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আলাউদ্দিনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরে আপিল আদালতও সেই সাজা বহাল রাখেন।
হাইকোর্টে রিভিশনের পর আদালত অর্থদণ্ড বহাল রাখলেও কারাদণ্ড বাতিল করে দেন।
📌 সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক












