আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন (বি-২) ও ব্যবসায়িক (বি-১) ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড (জামানত) আরোপের নীতি স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে যাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজন মনে করলে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা অনুমোদনের শর্ত হিসেবে আবেদনকারীর কাছে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত চাইতে পারবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ভিসা বন্ড কর্মসূচি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। বিশেষ করে ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং নির্ধারিত সময় শেষে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় কর্মসূচিটিকে এবার স্থায়ী করা হচ্ছে।
এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার ও ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের সুযোগ ছিল। নতুন নীতিতে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩ আগস্ট থেকে নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।
এই নীতির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টি আফ্রিকার দেশ। তবে ভারত এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়া বা ‘ভিসা ওভারস্টে’ কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অভিবাসনবিষয়ক অধিকারকর্মীরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের জামানতের শর্ত অনেক বৈধ ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অভিবাসন নীতি অপরিহার্য।












