বিডি ভিউজ বাংলা | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে তিনি আপাতত সরে এসেছেন। তার দাবি, দ্রুত একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকায় হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছে। কারণ একটি সম্ভাব্য চুক্তির মূল কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি ও ইরানের ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো সামরিকভাবে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরিকল্পনা ছিল, কয়েক দিন ধরে অভিযান চালিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করা।
এদিকে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরাইল যৌথ অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো অন্যতম।
অন্যদিকে, ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করলে তারাও পাল্টা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমলেও হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম (রয়টার্স, অ্যাক্সিওস, ওয়াশিংটন পোস্ট)












