আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা :
ট্রাম্পের আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের, হরমুজ ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক তৎপরতা; বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করল তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই আবারও যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায় বসার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
রোববার (২ আগস্ট) ট্রাম্প তার বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে। তিনি দাবি করেন, ইরানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন, তবে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
ট্রাম্প বলেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাকে হামলা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে যেতে অনুরোধ করেছিলেন।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না’: ইরান
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।
সোমবারের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কোনো ইরানি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে যাচ্ছে না এবং কোনো মার্কিন প্রতিনিধিকেও তেহরানে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইরানি মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের বাস্তব ভিত্তি নেই। বর্তমানে ইরানের মূল মনোযোগ ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা সম্পন্ন করার দিকে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আর ফিরে যাবে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নতুন ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করছে—ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা












