বিডি ভিউজ বাংলা | নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার কাঠামোয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসক (বর্তমানে যুগ্ম সচিব)-কে সম্প্রতি বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে আরও ২২ জন সাবেক জেলা প্রশাসক একই প্রক্রিয়ার আওতায় অবসরে যান।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনেও বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার আওতায় বিভিন্ন ধাপে ৮০ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনগণমুখী করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও উল্লেখ করেনি যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে জনস্বার্থে কারণ দর্শানো ছাড়াই অবসরে পাঠানোর বিধান রয়েছে এবং সেই বিধানই প্রয়োগ করা হয়েছে।
তবে তিনি মন্তব্য করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত।
প্রশাসনে নজরদারি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অতীতের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা ধাপে ধাপে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এর আগে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সংসদে জানান, বিগত সরকারের আমলে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন—এমন কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরোনো মামলার তদন্তেও অগ্রগতি
সরকারের সময় আলোচিত কয়েকটি পুরোনো মামলার তদন্তেও অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তার এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় নতুন তদন্ত উল্লেখযোগ্য।
সরকারের লক্ষ্য
সরকার সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাষ্ট্র সংস্কার শুধু প্রশাসনিক রদবদলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী প্রশাসন গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রশাসনে রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতাকে মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তবে উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনেক তথ্য সরকারি সূত্র, মন্ত্রীদের বক্তব্য এবং সরকারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ বা মূল্যায়নের অনেক বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই বা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়নি।
সূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলন, সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য এবং সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।












