হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, সংঘাতের আগে যে ব্যবস্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ পরিচালিত হতো, সেখানে আর ফিরে যাওয়া হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান ও মাসকাটের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘চূড়ান্ত হওয়ার পথে’। রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালির প্রচলিত নৌপথের বাইরে নতুন একটি সামুদ্রিক রুট নিয়ে দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। নতুন রুটটি উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ পরিচালিত হয়। তাই হরমুজের নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি চুক্তি হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে সমঝোতা সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, চুক্তির প্রতিপক্ষদের অঙ্গীকার রক্ষা নিশ্চিত করতে ইরান কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক বার্তার দ্বৈত অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আল জাজিরা












