Home অর্থনীতি ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় বাড়ল ৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা, চালু হবে...

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় বাড়ল ৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা, চালু হবে ২০২৮ সালে

0
5
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় বাড়ল ৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা, চালু হবে ২০২৮ সালে

ন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক
বিডি ভিউজ বাংলা

রাজধানীর যানজট নিরসনে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিধি ও নির্মাণ ব্যয় বড় আকারে বেড়েছে। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সংযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, বাইপাইল ইন্টারসেকশন এবং নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ।

এই তিনটি নতুন অঙ্গ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় মূল বরাদ্দের তুলনায় ৯ হাজার ৪৯২ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা বেড়েছে, যা প্রায় ৫৪ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল হয়ে সাভারের ঢাকা ইপিজেড পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

তাদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

২০২৮ সালের জুনে চালুর লক্ষ্য

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ২০২৮ সালের জুনে যান চলাচলের জন্য এক্সপ্রেসওয়েটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি জানান, ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার অংশের দুটি সার্ভিস লেন সেতু দ্রুত যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজও দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।

ব্যয় বৃদ্ধির কারণ

প্রকল্প পরিচালক জানান, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

তিনি বলেন, ডলারের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে না।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কারণে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ৭৭০ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে।

২৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে প্রকল্প ব্যয়

শুরুতে ২০২২ সালে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। বর্তমানে সংশোধনের পর প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা

চীন ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ঠিকাদারি করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (CMC)। অর্থায়ন করছে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না।

কাজের অগ্রগতি

প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভৌত কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রায় শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ বাড়তে পারে।

রাজধানীর যানজট কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, দুটি প্রকল্প সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হলে রাজধানীর মধ্য দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও জানান, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বিশেষ সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়েছে। এটি আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here