বিডি ভিউজ বাংলা | অর্থনীতি ডেস্ক
দেশে অতিবৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) রাতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচের প্রথম চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর রাতেই আমদানি করা মরিচের চালানটি ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। এ চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে শিমু শিপিং লাইন্স।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
আমদানি বাড়লে দাম কমার আশা
আমদানিকারক শাহাজান জানান, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করা হবে। আমদানি বাড়লে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, কাস্টমসের জটিলতা ও পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় নানা সমস্যার কারণে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
২৯ হাজার ৭১০ টন আমদানির অনুমতি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের অনুমোদনের পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।
প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাজারে এখনো ৩০০ টাকা কেজি মরিচ
এদিকে বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে সোমবার প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আমদানি বাড়লে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দাম কমে আসবে।
আমদানি সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা। এর সঙ্গে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক যুক্ত হচ্ছে। তবে পরিবহন, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
ক্রেতাদের স্বস্তি ফেরাতে বাজার তদারকির দাবি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কাঁচা মরিচের বাড়তি দামে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা বাজারে কার্যকর তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ সংকট মোকাবিলা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আমদানি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।












