Home আন্তর্জাতিক ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

0
5

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক
বিডি ভিউজ বাংলা

ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে ইরান।

সূত্রগুলোর দাবি, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর তেহরান সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নতুন হামলা ঠেকানোর আহ্বান জানান।

ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও বিদ্যুৎ গ্রিড, তেল শোধনাগার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও তেলক্ষেত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের এই হুঁশিয়ারির পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামরিক অভিযান স্থগিত রেখে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

একই সঙ্গে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থানের পেছনে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওই হামলায় দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের বড় অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এদিকে, গত ২ আগস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে তিনি প্রস্তুত।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে—কোনো চুক্তিকে তেহরান যেন নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে না পারে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন দুই সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে—একদিকে আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা।

সূত্র: রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here