Home আন্তর্জাতিক ট্রাম্প–ইরান সমঝোতা বারবার ব্যর্থ, নেতৃত্বের বাস্তবতা বুঝতে হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষণ

ট্রাম্প–ইরান সমঝোতা বারবার ব্যর্থ, নেতৃত্বের বাস্তবতা বুঝতে হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষণ

0
5
ট্রাম্প–ইরান সমঝোতা বারবার ব্যর্থ, নেতৃত্বের বাস্তবতা বুঝতে হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন বলে বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, তেহরানের নেতৃত্ব, ক্ষমতার কাঠামো এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমিত বোঝাপড়াই এই অচলাবস্থার অন্যতম কারণ।

সোমবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আচরণে তেহরান ‘অবিশ্বাস্য রকমের কপটতা’ দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ইরানের কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ট্রাম্পের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।

নিজেকে দক্ষ আলোচক হিসেবে উপস্থাপন করলেও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে ট্রাম্প বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “তারা আমাকে রাগিয়ে দিচ্ছে।”

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তেহরান এখনো ওই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ট্রাম্প এই অবস্থানকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে প্রায় সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নাম উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ২০ মাসের আলোচনার পর ২০১৫ সালে তিনি ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি (JCPOA) সম্পন্ন করেন, যা তার প্রশাসনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাবেক সিআইএ বিশ্লেষকের মূল্যায়ন

ইরানবিষয়ক গবেষক ও সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ইরানের নেতৃত্বকে সবচেয়ে কম বুঝতে পেরেছেন।

তার মতে, ট্রাম্প একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী ছিলেন, অন্যদিকে সর্বোচ্চ চাপ ও শক্তি প্রয়োগের নীতিও অনুসরণ করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কৌশলই কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি।

সরকার পরিবর্তনের আহ্বানেও পরিবর্তন আসেনি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। একই সময়ে দেশটির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও নিহত হন।

তবে ট্রাম্পের প্রত্যাশার বিপরীতে ইরানে কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। বরং দেশটির বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here