Home আন্তর্জাতিক ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই রাশিয়ার মোকাবিলা করতে পারবে?

ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই রাশিয়ার মোকাবিলা করতে পারবে?

0
34
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই রাশিয়ার মোকাবিলা করতে পারবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপের সামনে নতুন এক কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন ছাড়াই ইউরোপ কি নিজস্ব সামরিক সক্ষমতায় রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলা করতে পারবে?

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ শুধু ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইবার ও হাইব্রিড হামলা, রাশিয়াপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মতো ঘটনাগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ন্যাটোতে নতুন বাস্তবতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর ইউরোপীয় দেশগুলো আরও বেশি উপলব্ধি করছে যে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো সক্রিয়ভাবে পাশে নাও থাকতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে অনেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “ন্যাটো ৩.০” নামে অভিহিত করছেন।

এই ধারণার মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সীমিত হলেও ইউরোপীয় সদস্যরা যেন সম্মিলিতভাবে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।

ইউরোপের সামরিক প্রস্তুতি

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পূর্ব ও উত্তর ইউরোপের দেশগুলো সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। জার্মানি ইতোমধ্যে লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ীভাবে প্রায় ৫ হাজার সদস্যের একটি সামরিক ব্রিগেড মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৫ নিয়ে শঙ্কা

ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা মানে পুরো জোটের ওপর হামলা। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ভবিষ্যতে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পিছিয়ে যায়, তাহলে ন্যাটোর কার্যকারিতা এবং ঐক্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো

বিশ্লেষণে ইউরোপের জন্য কয়েকটি বিকল্প কাঠামোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং” বা স্বেচ্ছাসেবী দেশগুলোর নিরাপত্তা জোট
  • একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর যৌথ নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ ন্যাটোর বিকল্প নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত হলে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপসংহার

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তা স্থাপত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ন্যাটোর কাঠামো কীভাবে পরিবর্তিত হবে এবং ইউরোপ কতটা স্বনির্ভর হতে পারবে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (মতামত/বিশ্লেষণ)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here