জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর ভূমিকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে ওই বিমানে ওঠেননি তারিক সিদ্দিকী।
তবে কেন তিনি ওই সময় বিমানে ওঠার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা ও তার বোনকে নিরাপদে ভারতে পাঠানোর পর তারিক সিদ্দিকী দেশে থেকে যান এবং পরদিন ভিন্ন পথে দেশ ছাড়েন। যদিও এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেশত্যাগের শেষ মুহূর্ত
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ অবস্থায় শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপর বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইসে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের জন্য আগে থেকেই একটি সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
সূত্র জানায়, ওই বিমানে তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের থাকার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি বিমানে ওঠেননি।
ভারতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে বহনকারী সামরিক পরিবহন বিমানটি ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখানে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ দেশটির কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে বিমানটি যাত্রা করেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়।
আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে বিভিন্ন তথ্য সামনে এলেও এসব তথ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দায়িত্ব পালন নিয়ে মত
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও আইনজীবী মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেনের মতে, পদত্যাগের পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে তিনি বলেন, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ওই সময় শেখ হাসিনাকে আইনের আওতায় আনার সুযোগ ছিল কি না—এ বিষয়েও রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিষয়গুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত দাবি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।












