Home জাতীয় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গ্রেডেশন তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠদের পেছনে ফেলে জুনিয়রদের অগ্রাধিকার

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গ্রেডেশন তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠদের পেছনে ফেলে জুনিয়রদের অগ্রাধিকার

0
6
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গ্রেডেশন তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠদের পেছনে ফেলে জুনিয়রদের অগ্রাধিকার

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গ্রেডেশন তালিকা নিয়ে অনিয়ম, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের।

জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা (গ্রেডেশন) তালিকা তৈরি ও গেজেট প্রকাশ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম ও প্রকৃত জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে তালিকার শীর্ষে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। এতে দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা আবারও পিছিয়ে পড়েছেন বলে দাবি তাদের।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত আগের সমন্বিত ও পরিমার্জিত গ্রেডেশন তালিকাকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নতুন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পেছনে ফেলে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তাদের সামনে আনা হয়েছে।

খসড়া তালিকার ১১ নম্বর থেকে ১ নম্বরে

প্রকাশিত গেজেট বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া তালিকার ১১ নম্বরে থাকা সিনিয়র কমিটি অফিসার রাহাত আরা ইমামকে চূড়ান্ত তালিকায় ১ নম্বরে আনা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ জুন জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে তার ষষ্ঠ গ্রেডে যোগদানের তারিখ প্রকৃত সময়ের তুলনায় প্রায় দুই বছর এগিয়ে দেখানো হয়। তার নবম গ্রেডে মূল যোগদানের তারিখ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রাহাত আরা ইমাম অবশ্য এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, গ্রেডেশন তালিকা মানবসম্পদ বিভাগ প্রণয়ন করেছে এবং এ বিষয়ে তারাই ব্যাখ্যা দিতে পারবে। অতীতে যথাসময়ে পদোন্নতি না পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জ্যেষ্ঠ চার কর্মকর্তা পিছিয়ে

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খসড়া তালিকায় ৫ থেকে ৮ নম্বরে থাকা সাব্বির মাহমুদ, নীলুফার ইয়াসমিন, মো. আরিফ ও রায়হানা ইয়াসমিন চূড়ান্ত তালিকায় যথাক্রমে ১০, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বরে নেমে গেছেন।

অন্যদিকে ২০২১ ও ২০২৩ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের পেছনে থেকে চূড়ান্ত তালিকার সামনের দিকে স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ফিডার পদে যিনি জ্যেষ্ঠ, পদোন্নতির জ্যেষ্ঠতা তালিকাতেও তার অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। জুনিয়র কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে আসা হলে তা চাকরিবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

গ্রেডেশন তালিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, তালিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটেছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

জনপ্রশাসনের মতামত নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গ্রেডেশন তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লিখিত মতামত নেওয়ার প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। শুনানির সময় তড়িঘড়ি করে একজন প্রতিনিধির কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লিখিত মতামত নেওয়া হলে সেটি ভবিষ্যতে আইনি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেত—এমন দাবি করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

যা বলছে সংসদ সচিবালয়

নতুন গ্রেডেশন তালিকার বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। নথি না দেখে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে মানবসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মাসুমা খানম বিষয়টিকে প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে ফোনে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি হওয়া উচিত। প্রশাসনে মেধার সংকট তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রকৃত জ্যেষ্ঠতার নীতি অনুসরণ না করা হলে সেটি প্রশাসনিক অনিয়ম। আর্থিক বা অন্য কোনো প্রভাবের মাধ্যমে তালিকা তৈরি হয়ে থাকলে তা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গ্রেডেশন তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা।

নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্টদের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়।

সূত্র: দৈনিক আমার দেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here