Home রাজনীতি ‘বড় বন্ধু হলে বাংলাদেশের বড় কিলারকে বুকে জায়গা দিয়েছেন কেন’: শফিকুর রহমান

‘বড় বন্ধু হলে বাংলাদেশের বড় কিলারকে বুকে জায়গা দিয়েছেন কেন’: শফিকুর রহমান

0
4
‘বড় বন্ধু হলে বাংলাদেশের বড় কিলারকে বুকে জায়গা দিয়েছেন কেন’: শফিকুর রহমান

জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলাঃ পাশের দেশ নিজেদের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু দাবি করলেও তাদের কর্মকাণ্ডে বন্ধুত্বের প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বড় বন্ধু হলে বাংলাদেশের বড় কিলারকে আপনারা বুকে জায়গা দিয়েছেন কেন? শুধু জায়গা দেননি, কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা তার নিন্দা জানাই।’

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান—ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ৩৬ জুলাই উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘কাজ করবেন শত্রুর, গালভরা বলবেন আমি বন্ধু—বাংলাদেশের মানুষ এত বোকা নয়।’

‘পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, একটি সমাজ থেকে অপরাধীরা ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে বাঁচতে পালিয়ে যায়। এখন পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ ‘উঁকি-ঝুঁকি’ দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে ফিরে আসার কথা বলছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন সবকিছু বের হয়ে আসছে। তিন দিন পাশের দেশে একাধিক ফোন গেছে। তাদের কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। তাহলে কি গোপালগঞ্জ যাওয়ার জন্য ভারতের কাছে ফোন দিয়েছিলেন?’

জাতির সঙ্গে এ ধরনের ‘তামাশা’ মানুষ আর দেখতে বা শুনতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদীদের বিদায় করা হয়েছে। তবে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চান না তারা।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটা ভাইরাস। এটা কোনো ব্যক্তি নয়, ব্যক্তির গায়ে বসে। এই ভাইরাস যাকেই পাবে, তাকে ফ্যাসিবাদী বানিয়ে ছাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, যে কাজের কারণে আগের সরকারকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়েছে, বর্তমানে কেউ একই কাজ করলে তাকেও ফ্যাসিবাদী বলতে হবে। অন্যের সন্তান একই কাজ করলে তাকে সন্ত্রাসী বলা হলে নিজের সন্তান করলেও তাকে সন্ত্রাসী বলতে হবে।

‘মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন জরুরি’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের ভেদাভেদ ও বৈষম্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করা—এমন মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, জাতিসংঘের হিসাবে ওই আন্দোলনে ১৪ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও আলেম-ওলামারাও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি দাবি করেন, নিহতদের মধ্যে ৬০০ থেকে ৭০০ জন সাধারণ শ্রমিক ছিলেন।

বর্তমান সরকারের মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হচ্ছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই প্রতিশোধ কার বিরুদ্ধে? তারা জাতিকে উপযুক্ত সেবা দিতে না পারলে আপনাদের প্রতিশোধ হবে জাতির বিরুদ্ধে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যারা সরকারি ও বিরোধী দলে রয়েছেন, তাদের অনেকেই অতীতে মজলুম ছিলেন। কিন্তু মজলুমরা কেন আবার জালিম হয়ে উঠছেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

‘ক্ষমতার দম্ভে দিশাহারা হওয়া যাবে না’

ক্ষমতার দম্ভে কেউ যেন দিশাহারা না হন, সে বিষয়ে সতর্ক করে শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো সময় রাজনৈতিক পরিবর্তন হতে পারে। আগের সরকারের কেউ আজ সংসদে নেই—তাদের অপকর্মের কারণেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তাই শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় ন্যায়বিচার এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন জরুরি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এ সময় চিকিৎসা, নার্সিং, মেডিকেল টেকনোলজি, স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা, রক্তসেবা, মানবিক সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের জন্য ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here