Home আন্তর্জাতিক ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি ষড়যন্ত্রের তথ্য ‘সাজানো’ হতে পারে, সন্দেহ তুরস্কের

ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি ষড়যন্ত্রের তথ্য ‘সাজানো’ হতে পারে, সন্দেহ তুরস্কের

0
6
ম্পকে হত্যার ইরানি ষড়যন্ত্রের তথ্য ‘সাজানো’ হতে পারে, সন্দেহ তুরস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০ সকাল
সর্বশেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০ সকাল

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা ভেস্তে দিতে ওই গোয়েন্দা তথ্য সাজানো কৌশলের অংশ হতে পারে।

মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে তুরস্কের কর্মকর্তাদের এমন সন্দেহের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে গোপনে দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্প ও তাঁর এয়ার ফোর্স ওয়ান-এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থায় শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।

আঙ্কারা বিমানবন্দরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা

৭ ও ৮ জুলাই ন্যাটো সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আঙ্কারায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ফুটপাতে চলাচলও সীমিত করা হয়। সরকারি কর্মীদের এক সপ্তাহের প্রশাসনিক ছুটি দেওয়া হয়েছিল।

সম্মেলনস্থলের কাছাকাছি তুরস্কের বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিকেও বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, যেটি আনুষ্ঠানিকভাবে আঙ্কারা বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকে সম্মেলনস্থলে যেতে সময় লাগত মাত্র ১০ মিনিট।

এই নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা তুরস্কের কর্মকর্তাদের জানান, ইসরায়েল থেকে একটি গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তথ্যে বলা হয়, ইরান ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের একটি গোপন অপারেশন ইউনিট আঙ্কারা বিমানবন্দরের কাছে ট্রাম্পের নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলায় বিমানবন্দর থেকে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করে ম্যানপ্যাডস নামে পরিচিত কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।

বদলে যায় ট্রাম্পের যাত্রাপথ

নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়ার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। প্রথমে ট্রাম্পের আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে যাত্রার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে এসেনবোগা বিমানবন্দর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ফিরিয়ে আনা হয়। কারণ, এতে এমন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, যা নতুন বিমানে ছিল না।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরও ট্রাম্পকে গোপনে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং গাড়ির মাধ্যমে তাঁকে মার্কিন সরকারের সি-৩২ বিমানে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানান, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তারা সি-৩২ বিমানের জন্য অতিরিক্ত অবতরণের অনুমতিও চেয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনায় তুর্কি কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ধারণা তৈরি হয়।

তুরস্কের কর্মকর্তাদের সন্দেহ কেন?

তুরস্কের কর্মকর্তাদের একাংশ এখন মনে করছেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যটি সম্ভবত বাস্তব হুমকির পরিবর্তে একটি কৌশল ছিল। তাদের ধারণা, এর মাধ্যমে ইসরায়েলকে ট্রাম্পের নিরাপত্তার রক্ষাকারী হিসেবে তুলে ধরা, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা বাধাগ্রস্ত করা এবং ট্রাম্প ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠতা দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

এক তুর্কি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনটি নিয়ে তারা সতর্ক ছিলেন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সহযোগিতাও করেছিলেন। তবে তাদের কাছে হামলার তথ্যটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ‘এই প্রতিবেদন সঠিক হওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।’

তবে এটি তুরস্কের কর্মকর্তাদের সন্দেহ ও মূল্যায়ন; ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করার কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর অবস্থানে পার্থক্য

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যটি এমন এক সময়ে আসে, যখন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বারবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বলেন এবং আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার পক্ষে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় আরও বড় হামলা এবং দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন

তথাকথিত হত্যাচেষ্টার এক দিন আগে এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে তুরস্কের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

তবে ইসরায়েল তুরস্ককে এফ-৩৫ দেওয়ার বিরোধিতা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলের আশঙ্কা, তুরস্ক এফ-৩৫ পেলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইরানের হামলার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল

ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য হুমকিকে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এর আগে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তানি নাগরিক আসিফ মার্চেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন রাজনীতিবিদকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়, যার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ট্রাম্পের নামও আলোচনায় আসে।

একই বছরের নভেম্বরে মার্কিন বিচার বিভাগ আফগান নাগরিক ফারহাদ শাকারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। তাঁর বিরুদ্ধে ইরান সরকারের নির্দেশে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ করা হয়। তবে ইরান ট্রাম্প বা অন্য কোনো মার্কিন কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

‘যে হামলা ঘটেনি, তার জন্য নায়ক দরকার’

তুরস্কের এক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, যে হামলা আদৌ ঘটেনি এবং সম্ভবত যার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, সেটির জন্য কাউকে ‘নায়ক’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়োজন কেন তৈরি হলো।

তুরস্কের কর্মকর্তাদের এই সন্দেহের বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চেয়েছে মিডল ইস্ট আই।

তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি সত্যিই সাজানো ছিল কি না—এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here