Home জাতীয় তিন বছরের মধ্যেই নড়বড়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, এক বছরে বন্ধ ৩০ বার

তিন বছরের মধ্যেই নড়বড়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, এক বছরে বন্ধ ৩০ বার

0
10
তিন বছরের মধ্যেই নড়বড়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, এক বছরে বন্ধ ৩০ বার

জাতীয় ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬

তিন বছরের মধ্যেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ মালিকানাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। গত এক বছরে বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রটি ৩০ বার বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বারই কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে দৈনিক আমার দেশ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রুটি দেখা দিয়েছে। মেরামতের পর কিছুদিনের মধ্যেই আবারও বিকল হয়ে পড়ছে কেন্দ্রটি। এতে প্রতিবারই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ভারতীয় প্রকৌশলীরা চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব দেশীয়দের

আমার দেশ জানায়, দুদকের অনুসন্ধান ও সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত উচ্চ বেতনভোগী কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর দেশীয় প্রকৌশলীদের দিয়ে কেন্দ্রটি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ভারতীয় কর্মকর্তা মাসে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন। একই পর্যায়ের বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের বেতন ছিল এক লাখ টাকারও কম—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।

কেন্দ্রটির মুখপাত্র আনোয়ারুল আজিমের দাবি, বর্তমানে দুটি ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

১৬০ কোটি ডলারের ঋণের বোঝা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রায় ১৬০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মোংলা বন্দর থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত নৌপথ ড্রেজিংয়ের কাজে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান ১১৯ কোটি টাকা নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ, পরিচালনা, ভারতীয় কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এবং বিভিন্ন কাজের ব্যয় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইকোর্টে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বেতন-সুবিধা এবং প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি—এ বিষয়টিও প্রতিবেদনে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

পরিবেশগত বিতর্কও পুরোনো

সুন্দরবনের কাছাকাছি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের শুরু থেকেই পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংগঠন প্রকল্পটির সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রটির পরিবেশগত প্রভাব, অর্থনৈতিক বোঝা এবং কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

সূত্র: দৈনিক আমার দেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here