নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ সকাল
আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ সকাল
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় আবাসিক হলের সংখ্যা কম থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস, ভাড়া বাসা কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি যাতায়াতে সময় নষ্ট, পড়াশোনায় ব্যাঘাত এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬২টি ছাত্র ও ১০০টি ছাত্রী হল রয়েছে। এসব হলে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৩৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধার বাইরে রয়েছেন।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। বিপরীতে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আবাসিক সুবিধাই নেই।
এসব বিশ্ববিদ্যালয় হলো—বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আবাসন সংকট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৬টি ছাত্র ও সাতটি ছাত্রী হল রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় হলের আসন অপ্রতুল হওয়ায় বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসন পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিদ্যমান আসন শিক্ষার্থীদের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। আবাসন সংকট কমাতে নতুন কয়েকটি হল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো হলগুলোতে আসন বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা মাত্র ২১.৮৭ শতাংশ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট আরও প্রকট। বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রদের ১০টি এবং ছাত্রীদের পাঁচটি হল-ডরমেটরিতে মাত্র ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব জানান, আবাসন সংকট কমাতে শিক্ষক কোয়ার্টার, সোহরাওয়ার্দী হল ও শামসুন্নাহার হল সংস্কারের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য নেই আবাসিক হল
ঢাকার সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও দীর্ঘদিনেও আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে শুধু ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হল রয়েছে।
জকসুর জিএস আবদুল আলিম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যা দীর্ঘদিনের। ছাত্রীদের একটি হলে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ছাত্রদের জন্য এখনো কোনো আবাসিক হল নেই।
আবাসন সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে রাজনৈতিক প্রভাব
আবাসন সংকটের সঙ্গে ক্যাম্পাস রাজনীতির একটি নেতিবাচক দিকও দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে। হলের সিট দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধভাবে হলে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন হল নির্মাণের পাশাপাশি মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিট বরাদ্দ, বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীর হলে থাকার নিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, আবাসিক হলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নীতিমালা অনুযায়ী সিট বণ্টন করা গেলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট অনেকটাই কমবে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সূত্র: আমার দেশ | ইউজিসির ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন












