Home আন্তর্জাতিক ইরান কূটনীতির চেয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বেশি জোর দিয়েছে

ইরান কূটনীতির চেয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বেশি জোর দিয়েছে

0
6
ইরান কূটনীতির চেয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বেশি জোর দিয়েছে

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা নিরসনে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার পরও গত দুই মাস ইরান কূটনীতির চেয়ে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতিতেই বেশি জোর দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) ইরান ও আরব কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং এই সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষও হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ধারণা ছিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতির জন্য সময় নিচ্ছে। এ কারণে গত ৬০ দিনে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উৎপাদন বাড়িয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কট্টরপন্থীদের নিয়োগ দিয়েছে।

আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে একটি ‘কৌশলগত পরিবর্তন’ লক্ষ্য করা গেছে। এর লক্ষ্য যুদ্ধকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাহিনীকে প্রস্তুত করা।

তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মোহাম্মদ হাসান সাংতারাশ ডব্লিউএসজেকে বলেন, ইরানে এখন এমন ধারণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে ‘মূল যুদ্ধটি এখনও শুরুই হয়নি।’

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ইরান আবারও হামলা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালিই ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরাক, ইয়েমেন ও লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে।

আরব দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু?

আরব কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ডব্লিউএসজে আরও জানিয়েছে, আইআরজিসি কয়েকটি আরব প্রতিবেশী দেশের জ্বালানি স্থাপনার বিস্তারিত লক্ষ্যবস্তু তালিকা প্রস্তুত করেছে।

তাদের সতর্কবার্তা হলো—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালে পাল্টা আঘাত হিসেবে আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

এদিকে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাত এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও হরমুজ সংকট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিলেও পরবর্তী সময়ে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে সামরিক পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে এসেছেন।

ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, হরমুজ প্রণালি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। জলপথটি ঘিরে সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এদিকে তেহরান গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছে, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি বিকল্প রুট নিয়ে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং এর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।

তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিনিময়ে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপন করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here