Home আন্তর্জাতিক ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, ১১ কর্মীর বিচার শুরু

ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, ১১ কর্মীর বিচার শুরু

0
8
ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, ১১ কর্মীর বিচার শুরু

বিডি ভিউজ বাংলা | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যাকার্তা শহরের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে শিশুদের নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে ১১ কর্মীর বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্থানীয় আদালতে এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মামলাটি ‘লিটল আরেশা’ ডে-কেয়ার কেন্দ্রকে ঘিরে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ২ থেকে ৬ বছর বয়সী কয়েকজন শিশুকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিশুকে দরজার সঙ্গেও বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, শিশুদের শাস্তি দেওয়ার নামে তাদের খাবার থেকে বঞ্চিত করা, পানিতে মাথা ডুবিয়ে দেওয়া এবং পা বেঁধে রাখার মতো নির্যাতন করা হতো।

এসব ঘটনার কারণে অনেক শিশু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়। তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্কের মতো উপসর্গ দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে এ ঘটনায় মোট ৩২ জনকে সন্দেহভাজন বা আসামি করা হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, নতুন করে আরও ১৪ জনকে আসামি করায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা ২৭-এ দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে ৩২ হয়েছে।

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডে-কেয়ার কেন্দ্রটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দিয়াহ কুসুমাস্তুতির বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতনে নির্দেশ দেওয়া এবং লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের অভিযানের পর ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আইনে এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনগতভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

শিশুদের নিরাপদে রাখার কথা যেখানে, সেই ডে-কেয়ার কেন্দ্রেই নির্যাতনের এমন অভিযোগ উদ্বেগজনক। এখন আদালতের বিচার ও রায়ের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ার ব্যবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং অনুমোদন ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here