বিডি ভিউজ বাংলা | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, পণ্য বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এর একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমার ভেতরে এবং অন্যটি জলসীমার বাইরে পড়েছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্তকে দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক কিমিট।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের অর্থনীতিতে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ইরানে আমদানি করা পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হলো দুবাই ও ইউএই। চীন ও তুরস্কের পরই এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
কিমিটের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিবছর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। ফলে আমিরাতের বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
ইরান ও আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা












