ন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ২০ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিজার করাতে এসে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অসাবধানতায় শিশুর মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়। পরে নবজাতকটির মৃত্যু হয় বলে তারা দাবি করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের অভিযোগ, সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের সাগর হাসানের স্ত্রী তাসমিরার প্রসবব্যথা উঠলে ভোরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে দ্রুত সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সকাল ১০টার দিকে গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে তাসমিরার সিজার করা হয়। অপারেশনের পর স্বজনদের জানানো হয়, তাদের ছেলে সন্তান হয়েছে; তবে নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন।
স্বজনরা শিশুটিকে দেখতে চাইলে প্রথমে তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তার মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা দাগ দেখতে পান বলে দাবি করেন স্বজনরা।
শিশুটির বাবা সাগর হাসান অভিযোগ করে বলেন,
“চিকিৎসকেরা সিজারের টেবিলে নিয়ে তিন ঘণ্টা পর মাথা কাটা বাচ্চা দিয়েছে। তারপরও নবজাতকটির চিকিৎসায় অবহেলা করেছে।”
তিনি বলেন, তাদের এটি ছিল প্রথম সন্তান। সন্তান জন্মের খবর শুনে দুই পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল থেকে নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
সাগর হাসান এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
তবে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পী স্বজনদের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, নবজাতকের শরীরে যে ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সিজারের সময় কেটে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।
তার ভাষ্য, সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক












