আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬
ভবিষ্যতে সংঘাত আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় নিজেদের সামরিক নীতিতে পরিবর্তন আনছে ইরান। দেশটির সামরিক কৌশলে এখন সম্ভাব্য হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই তা প্রতিহত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ক্লিনজেন্ডেল ইনস্টিটিউটের ইরানবিষয়ক গবেষক হামিদরেজা আজিজি ইরানের সামরিক নীতির এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। তিনি ‘ইরান অ্যানালিটিকা’ নামের একটি সাবস্ট্যাকভিত্তিক নিউজলেটারও লেখেন।
আজিজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে ইরানের আগের প্রতিরোধকৌশল প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। এ কারণে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তেহরান তার কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে হামলার আগেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি বলেন, তেহরান এখন আরও আগের পর্যায় থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে ইরান এমন একটি বার্তা দিতে চাইছে যে, দেশটির ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
ইরানের নতুন সামরিক নীতিতে দুটি দিক
আজিজির মতে, ইরানের নতুন ‘আক্রমণাত্মক সামরিক নীতিতে’ দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথমটি হলো আগাম হামলা বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। এর লক্ষ্য সম্ভাব্য কোনো হুমকি বাস্তবে পরিণত হওয়ার আগেই তা ঠেকানো।
দ্বিতীয়টি হলো মাত্রাতিরিক্ত পাল্টা জবাব। অর্থাৎ ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
উপসাগরীয় দেশগুলোকেও সতর্কবার্তা
ইরানের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, সেটিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আজিজি।
তার মতে, এই সতর্কবার্তা মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি একটি ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো সম্ভাব্য আরেক দফা উত্তেজনা বা সংঘাত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আজিজির বিশ্লেষণ বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইঙ্গিত মিলছে—ইরান এখন শুধু হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার কৌশলে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। বরং সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি কিংবা হুমকির পর্যায়েই প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার সক্ষমতা তৈরি করতে চাইছে।
এ পরিবর্তন ইরানের সামরিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন এই কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা












