লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:২৭ মিনিট
আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:২৭ মিনিট
নাটোরের লালপুরে প্রতারণার শিকার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছেন। শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় আজ সোমবার সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তাঁরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী।
তবে নিজ জেলার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মেয়েটির কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান জানান, গত বুধবার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কলেজকে জানানো হয়। এরপর দ্রুত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ড নিয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
বিভিন্ন কারণে বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ড এ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বোর্ডের কাছাকাছি স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেভাবে প্রতারণার শিকার হন শিক্ষার্থীরা
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ওই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন।
পরবর্তীতে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাঁদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।
কিন্তু পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, তাঁদের ফরম পূরণই করা হয়নি।
এর ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি তাঁরা।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উদ্যোগ
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।
এরপর দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে তাঁরা বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
তবে প্রথম পরীক্ষা অর্থাৎ বাংলা প্রথমপত্রের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
অবশেষে শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় আজ বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন তাঁরা।
প্রতারণার ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।
তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
যে আট শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন
১. ইসরাত জাহান সূচি
২. সবুজ আহমেদ
৩. শিমুল শেখ
৪. আকিবুল ইসলাম
৫. তানভীর হোসেন
৬. শিমুল আলী
৭. সাব্বির হোসেন
৮. শাওন
প্রতারণার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর বিশেষ ব্যবস্থায় হলেও শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আরও কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।












