নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পরিচালক এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মীর শাহে আলমের পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে ৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অন্তত ১২টি কাজ পেয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বগুড়াভিত্তিক রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড এবং মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্তের মালিকানাধীন মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং এসব কাজ পায়।
এর মধ্যে শাহে আলম বিসিকের পরিচালক থাকাকালে প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আরও ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
১২টি চুক্তির মধ্যে দুটি রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস এবং ১০টি মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পেয়েছে।
বিসিকের ২৫ কোটি টাকার চুক্তি
নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কাজের চুক্তি দেয় বিসিক।
চুক্তির নথি অনুযায়ী, বগুড়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিক মীর শাহে আলম ও তার ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।
এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি খাবার লবণে আয়োডিন যুক্ত করতে পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তখন শাহে আলম বিসিকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এ ধরনের সরকারি চুক্তিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা উচিত। তথ্যগুলো সঠিক হলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) খতিয়ে দেখা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদারও বলেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সন্তানরা তাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখলে তা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে।
অভিযোগ অস্বীকার শাহে আলমের
তবে মীর শাহে আলম সরকারি চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার দাবি, বিসিকে পরিচালক থাকাকালে বোর্ড সদস্য হিসেবে তার কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। তিনি কোনো ক্রয় কর্মকর্তা ছিলেন না এবং দরপত্র আহ্বান, অনুমোদন বা অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল না।
তিনি বলেন, তার ছেলে সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার পর পৌরসভা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি পদে থাকা অবস্থায় তার ছেলে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ারও কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানান তিনি।
মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
প্রতিবেদনে মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
গত ২৪ মার্চ আব্দুর রশীদ মিয়াকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, শাহে আলমের প্রভাবেই এই নিয়োগ হয়েছিল। তবে পাঁচ দিনের মাথায় ওই নিয়োগ বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও চিঠি পাঠানোর বিষয়েও তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ওঠে। এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই ওসিকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব বিষয়ে শাহে আলম বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শাহে আলমের বক্তব্য
৩১ আগস্ট সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহে আলম বলেন, তার ছেলের প্রতিষ্ঠান যে পৌরসভার একটি দরপত্র পেয়েছিল, সেটি তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগের ঘটনা। পরে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে হলফনামার মাধ্যমে কাজটি অন্য এক ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিসিকের চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার পরিবারের কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ পায়নি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, “আমি সেখানে বোর্ড সদস্য ছিলাম। বোর্ড সদস্যদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।”















