নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার মধ্যেই ইরানকে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মঙ্গলবার কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
পুতিন বলেন, এই ‘কঠিন সময়ে’ ইরানের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবে মস্কো।
এদিকে রাশিয়ার ইরানকে গোপনে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া গোপনে ইরানকে উন্নত প্রযুক্তির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। এ কর্মসূচির সাংকেতিক নাম ‘সি৪৩০এল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজের মতে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি রাশিয়া থেকে ইরানে হস্তান্তরে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
সাবেক সিআইএ সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, এই প্রযুক্তি ইরানকে ‘গুণগতভাবে নতুন একটি কৌশলগত অস্ত্রব্যবস্থা’ দিতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো নতুন ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। ইউএসএ টুডের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ‘খেইবার শেকান’ বা ‘ক্যাসল ব্রেকার’ নামে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি চীন ও রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এটি মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাত।
ইরান জানিয়েছে, এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে। তেহরান আরও ‘বিধ্বংসী হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, তাদের পাল্টা হামলায় জর্ডান ও ইরাকে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।














