কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব, ইউরোপকে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই উদ্যোগকে যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে মনে হয়, তাহলে ইউরোপের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধও করে দিতে পারে ওয়াশিংটন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তাঁর বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উপস্থিতিতে কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার পথ উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দেন। কার্নি বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
কানাডা-ইইউ সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ
ফন ডার লিয়েনের প্রস্তাবের লক্ষ্য কানাডা ও ইইউর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করা। প্রস্তাবিত অংশীদারত্বের আওতায় বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, আর্কটিক অঞ্চল ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে ‘সহযোগী সদস্য’ নামে ইইউতে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ নেই। এ ধরনের নতুন মর্যাদা চালু করতে হলে এর আইনি কাঠামো ও ইইউর সদস্যদেশগুলোর সম্মতির প্রয়োজন হবে। ফলে ফন ডার লিয়েনের প্রস্তাবটি এখনো একটি রাজনৈতিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে।
ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইউরোপের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যদি বৈরী বলে মনে হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ শুল্ক আরোপ করতে পারে।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি গুরুতর হলে ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধের পথও বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি বলেন, ইউরোপের উদ্দেশ্য ভালো হলে বিষয়টি নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে কানাডা
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। এর মধ্যে কানাডা ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা করছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ে তোলার কথা বললেও পূর্ণ সদস্যপদের কথা বলেননি। কানাডা ও ইইউর মধ্যে ইতোমধ্যে CETA নামে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি রয়েছে।
ফন ডার লিয়েনের প্রস্তাবের পর কানাডা-ইইউ সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এই উদ্যোগকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: বাসস, রয়টার্স, এপি













