আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি (HIV) সংক্রমণ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় দেশটিতে জাতীয় এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।
ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১৬ গুণ বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের জরুরি উদ্যোগ
ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আতোনিও লালাবালাভু জানিয়েছেন, দ্রুত বাড়তে থাকা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘সমন্বিত ও সর্বাত্মক’ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা আরও সহজলভ্য করা, প্রতিরোধমূলক ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো এবং আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ক্ষতি কমানোর (harm reduction) কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।
যৌন সম্পর্ক ও ইনজেকশনের মাধ্যমে সংক্রমণ বেশি
জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। আর ৪২ শতাংশের বেশি সংক্রমণের সঙ্গে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে।
শিশুদের মধ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেওয়া ৫৯ শিশুর মধ্যে ১৮ জন এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেছে বলে জানিয়েছে ইউএনএইডস।
সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচির পরিকল্পনা
ফিজি সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। সংক্রমণ প্রতিরোধে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের জন্য সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় ফিজিকে সহায়তা করছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, গ্লোবাল ফান্ড ও জাতিসংঘ।
মাদক পাচারের রুটে বাড়ছে ঝুঁকি
ইউএনএইডসের কর্মকর্তারা বলছেন, ফিজি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দ্বীপ মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকায় মাদকের প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি সংক্রমণের পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ফিজি সরকার বলছে, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড









