Home আন্তর্জাতিক ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় ঢাকা, পর্যালোচনায় ১০১ চুক্তি

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় ঢাকা, পর্যালোচনায় ১০১ চুক্তি

0
6

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় ঢাকা, পর্যালোচনায় ১০১ চুক্তি

আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

প্রকাশের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্য এবং আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (MoU) ও চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগে ঢাকার নতুন অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক স্বার্থ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে গুরুত্ব দিতে চায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

১০১ চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনায় সরকার

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। তিনি বলেন, পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবস্থাও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বাতিল, সংশোধন বা বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমান অবস্থাকে ‘১০১ চুক্তি বাতিল’ নয়, বরং ‘১০১ চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনা’ হিসেবে বর্ণনা করাই যথাযথ।

জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এ অবস্থানের অর্থ হলো—ঢাকা সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো ঘোষণা দেয়নি; বরং বিদ্যমান চুক্তি ও সহযোগিতার কাঠামো বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নতুন করে মূল্যায়ন করছে।

চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতীয় পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দুই দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বন্দর ব্যবহারের আর্থিক সুবিধা, অবকাঠামোর ওপর চাপ, পরিবহনব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

তাই চুক্তি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও মূল্যায়ন করা হবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, রেল ও সড়ক যোগাযোগ, নৌপথ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে।

ফলে সম্পর্কের কোনো একটি অংশে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য ক্ষেত্রগুলোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান আন্তঃনির্ভরতা অস্বীকার না করে পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতার কাঠামো আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালে

পানি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী ইস্যু। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা।

ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ, অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিস্তা ইস্যু আগামী দিনে ঢাকা-দিল্লি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে অগ্রাধিকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেখা গেছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় এবং সেই প্রক্রিয়া দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া উচিত।

এ অবস্থানের ফলে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

‘ভারতবিরোধী’ বা ‘ভারতঘনিষ্ঠ’—সরল ব্যাখ্যার বাইরে

সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্যগুলোকে শুধু ‘ভারতবিরোধী’ বা ‘ভারতঘনিষ্ঠ’—এই দুই ধরনের সরল রাজনৈতিক কাঠামোয় ব্যাখ্যা করলে সম্পর্কের বহুমাত্রিক বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যেতে পারে। সরকারের ঘোষিত অবস্থানে একদিকে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here