আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬
টানা দশম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হরমুজ প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিরিক, বন্দর আব্বাস, বন্দর লেঙ্গেহ, কেশম দ্বীপ, চাবাহার, কোনারাক ও শিরাজ। একই সময়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহর অঞ্চলেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা পরিচালিত হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সম্প্রতি তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চলবে, তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মার্কিন সেনাদের হত্যার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে “২০ গুণ বেশি শক্তি” নিয়ে হামলা চালাবে। তার ভাষ্য, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বর্তমানে নিরাপত্তা ও সামরিক পদক্ষেপই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় পথে চলাচলরত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে জানানো হয়, উদ্ধারকারী দল জাহাজ দুটির নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল, গ্যাস বা রাসায়নিক সার রপ্তানি বন্ধ রাখা হবে।
এছাড়া বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আল-রিফা এলাকায় একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে আইআরজিসি। একইসঙ্গে কুয়েতে মার্কিন দীর্ঘপাল্লার রাডার, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট গ্রহণ ব্যবস্থা এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারেও হামলার দাবি করেছে তারা।
তবে এসব সামরিক সাফল্যের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংঘাত ঘিরে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা, হোয়াইট হাউস, আইআরআইবি, আইআরজিসি।










