ন্যাশনাল নিউজডেস্ক, বিডি ভিউজ বাংলা:
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গবেষণাটি যৌথভাবে করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশন বাণিজ্য এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রবণতা বন্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
তিনি বলেন, “সরকারি দায়িত্ব রেখে পাশের ক্লিনিকে সার্জারি করা, রোগীকে বাইরে টেস্ট করাতে পাঠানো এবং কমিশন নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।”
টেন্ডার অনিয়ম ও স্বাস্থ্য খাতে অপচয় নিয়ে অভিযোগ
স্বাস্থ্য খাতের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এমন শর্ত দেওয়া হয়, যাতে অন্যরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারে।
তিনি দাবি করেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া অনেক দামি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
ডায়ালাইসিস সেবায় নতুন উদ্যোগ
মন্ত্রী জানান, দেশে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণে সরকার নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের খরচ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এ কার্যক্রমে স্মার্টফোন, এআই প্রযুক্তি সমৃদ্ধ কিট বক্স ব্যবহার করে উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হবে।
অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে নজরদারি
হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারকে ভয় দেখিয়ে সিজার করানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা বন্ধে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযান চালানো হচ্ছে।
অডিটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্কতা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অডিটের নামে কোনো ধরনের অনৈতিক অর্থ লেনদেন করা যাবে না।
তিনি বলেন, “সৎ থাকলে কাউকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করা হলে সরাসরি জানাতে হবে।”
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন












