স্টাফ রিপোর্টার | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
আলোচনায় থাকা তিন নেতা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় সূত্রের দাবি, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের ধারাবাহিকতায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমন একজনকে মনোনয়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যিনি অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য এবং বিতর্কমুক্ত।
সূত্রগুলোর দাবি, ড. আবদুল মঈন খানের উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ এবং বিজ্ঞান, পরিকল্পনা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ বর্তমানে শূন্য। ভবিষ্যতে কে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতিবাচক রেকর্ড বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যিনি রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার মতে, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেও এ পদে বিবেচনা করা যেতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দলীয় সূত্রের বরাত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।











