Home সর্বশেষ সংবাদ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ: সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনা ফের আলোচনায়

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ: সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনা ফের আলোচনায়

0
5
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ: সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনা ফের আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | BD Views Bangla
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাউ’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আলোচিত গুমের ঘটনাগুলোর একটি আবারও সামনে এসেছে—২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা

উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ

২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময় বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ায় তিনি গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানা যায়। একপর্যায়ে বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের পরামর্শে তিনি উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান নেন।

ফ্ল্যাটটির মালিক ও সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাতের বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ মার্চ সন্ধ্যার পর তিনি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে থাকা বাবুর্চি ও সহকারী কান্নাকাটি করে তাকে জানান, ‘মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে।’

দুই মাস পর শিলংয়ে সন্ধান

সালাহউদ্দিন আহমদ প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে সন্ধান পান। তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

তবে কীভাবে তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতের শিলংয়ে পৌঁছেছিলেন এবং কারা তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে।

গুমের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল তৎকালীন সরকার

সালাহউদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। বরং তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাকে তুলে নিয়ে গেছেন।

ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উত্তরার ওই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিনকে তুলে নেওয়ার আগে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল।

গুমের আগে গ্রেপ্তার হন সহযোগীরা

সালাহউদ্দিন আহমদ নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে তার দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরপর ৮ মার্চ গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাতের সম্পৃক্ততা ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের তাৎপর্য

জোরপূর্বক গুম একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে বিবেচিত। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করা, তাদের পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরা এবং এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা।

সালাহউদ্দিন আহমদের ঘটনা বাংলাদেশের জোরপূর্বক গুমের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার আলোচনায় রয়েছে।

সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here