Home আন্তর্জাতিক অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা

অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা

0
8
অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক | BD Views Bangla
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬

ইরান সরকারকে প্রচলিত সামরিক উপায়ে উৎখাত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট

পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জো কেন্ট মার্কিন সরকারের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস ও সিআইএতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে ১১ বার বিদেশে মোতায়েন হয়েছিলেন।

‘পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না’

কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ বেছে নেবে না—এমনটা ধরে নেওয়া ‘বোকামি’ হবে।

তার মতে, মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগের পরও ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পরিবর্তিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই পুরোপুরি অর্জন করতে পারেননি।

কেন্টের দাবি, ওয়াশিংটন যদি ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটিকে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করতে চায়, তাহলে সামনে দুটি বিকল্প থাকতে পারে—পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান অথবা পারমাণবিক হামলা

তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা

কেন্টের অনুমান, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ওয়াশিংটন ইরানের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় চলে আসতে পারে।

তবে ট্রাম্প এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকটের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদের মজুত রয়েছে।

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন, যাকে তিনি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এর কয়েক দিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। এতে চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি নয়—এমন দেশগুলোর ওপরও চাপ প্রয়োগ করে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করাই ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here