Home আন্তর্জাতিক হরমুজে ২০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

হরমুজে ২০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

একদিনের মধ্যেই নীতিগত পরিবর্তন; ইরান যুদ্ধের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কার্যকর কৌশল খুঁজে পায়নি বলে বিশ্লেষকদের মত

0
38
হরমুজে ২০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র একদিন পরই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে এখনো কার্যকর কৌশল খুঁজে পায়নি ওয়াশিংটন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ—এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের ক্ষেত্রেও—২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন।

ট্রাম্পের দাবি ছিল, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় করছে, তা পূরণ করতেই এই শুল্ক আরোপ করা হবে।

তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে জানান, এর পরিবর্তে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই নীতিগত পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ তৈরি করলেও সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও নৌ অবরোধের ঘোষণায় সেই অগ্রগতি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য পেলেও রাজনৈতিক সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হলেও দেশটি এখনো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিড বলেন, এই সংঘাত এখন একটি ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, আর এমন যুদ্ধ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলে।

অন্যদিকে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো এলিয়ট আব্রামসের মতে, এখন মূল প্রশ্ন হলো—কার ধৈর্য বেশি, তেল রপ্তানিতে বাধাগ্রস্ত ইরানের, নাকি পারস্য উপসাগরের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের।

তেলের বাজারে প্রভাব

বিবিসি জানায়, সংঘাত আবারও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতোমধ্যে ট্রাম্পের নৌ অবরোধের ঘোষণার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবের মতো মৌলিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকায় দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here