Home অর্থনীতি ৫ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের অনিয়মে ফরেনসিক অডিট চলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী

৫ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের অনিয়মে ফরেনসিক অডিট চলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী

অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা; গঠন করা হয়েছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’

0
12
৫ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের অনিয়মে ফরেনসিক অডিট চলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | বিডি ভিউজ বাংলা

একীভূত করা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম তদন্তে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অডিট প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অনিয়মে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ঋণ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে সরকার একটি সুসংগঠিত রেজল্যুশন কাঠামো বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে।

যেসব ব্যাংক একীভূত হয়েছে

তিনি জানান, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় নিম্নোক্ত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে—

  • এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক)
  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
  • ইউনিয়ন ব্যাংক

এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে।

আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা

অর্থমন্ত্রী বলেন, একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া অবসায়নাধীন ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। আগে এই সুবিধার বাইরে থাকা ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীদেরও এখন সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও আমানতকারীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্যাংক-কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত ও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়।

পরে ২০২৫ সালের মার্চ, আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসে আরও পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here