আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারির পর এবার লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির পথ হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো সবার জন্যই বন্ধ হয়ে যাবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের বাণিজ্যিক নৌপরিবহন এ পথ দিয়ে পরিচালিত হয়।
ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হুথিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার দায়ে সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করে গোষ্ঠীটি। এর জবাবে সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। এতে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলা চালায়। তখন তারা দাবি করেছিল, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে আইআরজিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে, ‘আমেরিকার অপকর্মের অবসান’ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।
আইআরজিসির দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড, রসদ, জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনাসহ কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় একটি মার্কিন রসদকেন্দ্র এবং জর্ডানের আজরাক ঘাঁটির বিমান হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তবে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হামলার পর একটি স্থানে আগুন লাগলেও সেটি আইআরজিসির দাবি করা একই স্থাপনা কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স










